মাথা ব্যথার নির্দিষ্ট কোনও কারণ কিন্তু নেই। অতিরিক্ত পরিশ্রম বা মানসিক চাপ থাকলে সেখান থেকে মাথা ব্যথা হতেই পারে। এছাড়াও ল্যাপটপের সামনে বসে একটানা কাজ করলে সেখান থেকেও কিন্তু সমস্যা হতে পারে। আর মাথা ব্যথা হলে ছেদ পড়ে জীবনযাত্রায়। কোনও শারীরিক সমস্যা নিয়ে কখনই মন দিয়ে কাজ করা যায় না। এছাড়াও মাথা ব্যথা হলে ল্যাপটপ, কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে না। টানা ফোনে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। কোনও কিছুই যেন ভাল লাগে না। অনেকেই মাথা ব্যথা দূর করতে ওষুধ খান। কেউ খান ঘন ঘন চা-কফি। তবে এই কোনও অভ্যাসই কিন্তু শরীরের জন্য ভাল নয়। বরং কাজে লাগান কিছু ঘরোয়া টোটকা।
মাথাব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে। মাথাব্যথার খুব সাধারণ কারণগুলো হলো ক্লান্তি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, ঔষধের প্রতিক্রিয়া, সাইনুসাইটিস, মাথায় আঘাত, দাঁতের রোগ, খুবই ঠাণ্ডা পানীয় বা খাবার খুব দ্রুত খেয়ে ফেলা ইত্যাদি। রোগ নির্ণয়ের সুবিধার্থে মাথাব্যথাকে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি এই ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। মাইগ্রেন, টেনশন মাথাব্যথা ইত্যাদি প্রাইমারি ক্যাটাগরিতে পড়ে অপরদিকে মাথায় আঘাত বা টিউমার, ইনফেকশন ইত্যাদি সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে পড়ে।
আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হোক বা কাজের চাপ, অল্পতেই মাথা ধরে অনেকের। ব্যস্ততার মধ্যে বিশ্রাম নেয়ার অবকাশও খুব একটা মেলে না। তাই মাথা ধরলেই ঘুমানোর ফুরসত সকলের মেলে না।
- মাইগ্রেন: মাথার যে কোনও একটা দিক থেকে ব্যাথা শুরু হয়। তাই একে আধ-কপালি ব্যাথাও বলা হয়। মাইগ্রেনের ব্যথা দপদপ করতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে সেই ব্যাথা পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া চোখের চারপাশেও ব্যাথা হতে পারে।টেনশন: এই কারণে মাথা ব্যাথা হলে পুরো মাথা জুড়ে হয়। মনে হবে, যেন কেউ মাথাটা চেপে ধরে আছে। ভারী ভারী লাগবে।
- ক্লাস্টার হেডেক: দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় বা বছরের নির্দিষ্ট একটা সময় এই ব্যথা হয়। চোখের পিছনের দিক থেকে মাথার একটি দিক বরাবর যন্ত্রণা হয়।মাথার ভিতরে রক্তপাত হলে: মাথার পিছন দিক থেকে শুরু হয়ে ঘাড় পর্যন্ত প্রচণ্ড ব্যথা
- ব্রেন ইনফেকশন বা মেনিনজাইটিস: পুরো মাথাজুড়ে যন্ত্রণা হয়। সঙ্গে ঘাড়েও ব্যথা হয়।চোখের পাওয়ার বাড়লে: চোখের চারপাশে ব্যাথাহবে। মাথাতেও ব্যাথা হবে।
- ভেনাস সাইনাস: মাথার ভিতরে ভেনাস সাইনাস ক্লট করলেও যন্ত্রণা হয়।
- ব্রেন টিউমার: মাথার ডান পাশে টেম্পোরাল লোবে টিউমার হলে সেই অংশে ব্যথা হয়। এরকমই যে দিকে টিউমার হয় সেই দিকে ব্যথা হয়। টিউমার ছোট থাকলে ব্যথা হয় না। আকারে অনেকটা বড় হলে তবেই হয় যন্ত্রণা।
- বয়স্কদের মাথাব্যথা: কানের পিছনে টেম্পোরাল আর্টারি থাকে। সেখানে টেম্পোরাল আর্টারাইটিস বলে একটা অসুখ হয়। এই অসুখ হলেও কানের পিছনে তীব্র ব্যথা হয়।
- সাইনাস ইনফেকশন: এ ক্ষেত্রে মুখমণ্ডলে ব্যাথা হতে পারে।
তবে মাথা ধরলে বেদনানাশক ওষুধ খাওয়া মোটেও কাজের কথা নয়। এসব ওষুধের অল্পবিস্তর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, সেই সাথে শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে অসহ্যকর মাথা ব্যথা থেকে আরাম মিলবে সহজেই। বরং সাধারণ কিছু ঘরোয়া উপায়ে মাথা ব্যথার সমস্যা আপনি কমিয়ে দিতে পারেন
এছাড়া মাথা ব্যথার আরও কারণ রয়েছে। মাথায় আঘাত লাগা, কিছু ওষুধ, ইনফেকশন, ওবেসিটি, ধূমপান, কফি খাওয়া, ঘুম না হওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়। মাথা ব্যথার সমস্যায় ওষুধ না খেয়ে মেনে চলুন এই সব ঘরোয়া টোটকা- ম্যাসাজ: কপালের দুই পাশের রগ বা ঘাড়ের কাছে যদি কিছু সময়ের জন্য আঙুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করা যেতে পারে। ক্লান্তির কারণে মাথা ধরলে এই ম্যাসাজ খুব কাজে দেয়। আঙুলের ডগার চাপ ব্যথার উৎপত্তিস্থলে গিয়ে কাজ করে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা। প্রায়দিন যদি এই সমস্যা হয় তাহলে ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত টলাচল ভাল হয়। স্নায়ুর চাপ কমে। এই ম্যাসাজের সময় রিল্যাক্সিং কোনও মিউজিক শুনুন। খুব লাউড কিছু শুনবেন না। সেই সঙ্গে ঘরের আলোও বন্ধ রাখুন। সবার সঙ্গে মন খুলে মিশুন। হাসুন। কথাবার্তা বলুন। এতে মানসিক চাপ কমে। মন ভাল থাকে। আর মন ভাল থাকলেই অনেক সমস্যার কিন্তু সহজ সমাধান সম্ভব। রোজ প্রাণায়ম করুন। এতেও কিন্তু শরীর থাকবে সুস্থ।
- আলো কমান: মাথা যন্ত্রণা শুরু হলে ঘরের আলো কমিয়ে দিন। কম্পিউটার স্ক্রিন, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন। বাইরে থাকলে ভাল মানের রোদচশমা ব্যবহার করুন।
- এসেনশিয়াল অয়েল: আঙুলের ডগায় এসেনশিয়াল অয়েল লাগিয়ে কপালে আর রগে ম্যাসাজ করুন। ল্যাভেন্ডার বা পিপারমিন্টের মতো কোনো সুগন্ধি ফ্লেভারের তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে মাথা যন্ত্রণা অনেকটা কমে।
- চা-কফি: চা বা কফিতে উপস্থিত ক্যাফেইন মাথা যন্ত্রণা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। চায়ে আদা-লবঙ্গ ও মধু মিশিয়ে খেলে মাথা যন্ত্রণায় আরাম পাওয়া যায়।
- গোসল: অসহ্যকর মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে গোসল করতে পারেন। মাথায় কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানি ঢাললে ভালো লাগবে।
- প্রচুর জলপান করুন: আমাদের প্রতিটি মানুষকে জলপান (Water) করার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আসলে শরীরে জলের ঘাটতি হলে অনেক সমস্যা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে হতে পারে ডিহাইড্রেশন। এই কারণে হয় মাথা ব্যথা। এবার বিভিন্ন গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে মাথায় ব্যথা হলে অনেকটা পরিমাণে জলপান করুন। দেখবেন কমছে সমস্যা। এছাড়া এমন ফল খান যার মধ্যে তরলের পরিমাণ রয়েছে বেশি। এভাবেই সমস্যা দূর করতে পারবেন।
- ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত খাবার: আসলে শরীরে ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium) দরকার। তবে বেশিরভাগ মানুষ এই খনিজকে পাত্তা দেন না। সেই কারণে সমস্যা বাড়তে থাকে। এই খনিজ শরীরে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকী নার্ভের ট্রান্সমিশনের কাজেও সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম। এই প্রসঙ্গে ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসন, ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন জানাচ্ছে যে শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে মাথা ব্যথা হয়। তাই এই খনিজ যুক্ত খাবার খান।
- মদ্যপান থেকে দূরে যান: আসলে অনেকেই মদ্যপান (No Alcohol) করতে পছন্দ করেন। এবার মদ খাওয়া খুবই খারাপ অভ্যাস। দেখা গিয়েছে এই পানীয় প্রদাহ তৈরি করে শরীরে। এছাড়া মদ কিন্তু রক্তনালীকে বড় করে দেয়। এই কারণে সমস্যা হয়। এছাড়া মাথায় রাখতে হবে যে শরীরে নানা জায়গায় ক্যানসারের কারণ হল মদ। তাই প্রতিটি মানুষকে এর থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। এবার গবেষণায় উঠে এসেছে মদ খেলেও মাথা ব্যথা হয়ে থাকে।
- ঘুম ঠিকমতো হতে হবে: আমাদের ঘুম (Sleep) খুব জরুরি। ঘুমের মধ্যে শরীর নিজেকে সারিয়ে নিতে পারে। তাই ঘুম খুবই প্রয়োজন। এবার ঘুম কম হলে নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকী মাথায় ব্যথাও হয়। প্রতিদিন নিয়ম মেনে ঘুমেরও প্রয়োজন আছে। রাতে অন্তত ৭-৮ ঘন্টা ঘুমোতে হবে। ঠিক মতো ঘুম না হলে কিন্তু কোনও সমস্যারই সমাধান হয় না। এতে আরও নানা সমস্যাও বাড়ে। মানসিক চাপ পড়ে। শরীরে যার প্রভাব পড়ে। দিনের পর দিন মাথ ব্যথার মত সমস্যা থাকলে পরবর্তীতে সেখান থেকে জটিল কোনও সমস্যাও কিন্তু আসতে পারে। অতিরিক্ত উত্তেজনা এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমও কিন্তু এড়িয়ে চলতে হবে।
- হিস্টামাইন যুক্ত খাবার থেকে দূরে যান: আসলে হিস্টামাইন (Histamine) হল একটি রাসায়নিক। এই রাসায়নিক শরীরে উপস্থিত থাকে। এবার এর পরিমাণ বাড়লে শরীরে সমস্যা তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে ইমিউনিটি কমে, পেট খারাপ হয়, স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা দেখা যায়। এবার এর পরিমাণ বাড়লে মাথা ব্যথা হয়। সেই বিষয়টা মাথা রাখা দরকার। তাই এই খাবার কম।
- সুষম আহার করুন: শরীর সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় খনিজ আর ভিটামিনের। আর তাই সব সময় চেষ্টা করুন সুষম আহার করতে। অনেক সময় অপুষ্টি থেকেও কিন্তু মাথা ব্যথার সমস্যা আসে। বেশিক্ষণ খালি পেটে থাকলে সেখান থেকেও মাথাব্যথা হয়। আর দেরি করে খাবার খেলে মস্তিষ্কে গ্লুকোজ সরবরাহ কম হয়। সেখান থেকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। তাই রোজ এমন খাবার খান যাতে শরীরের বিপাক ঠিক থাকে।
- ঘুমের কারণে মাথাব্যথা: আপনি সারা সপ্তাহে প্রতিদিন ১০ ঘন্টা করে কাজ করে সুস্থ বোধ করেন, কিন্তু ছুটির দিনে লম্বা একটা ঘুম দিয়ে উঠে দেখেন মাথাব্যথা করছে। এটার কারণ হলো হঠাৎ মানসিক চাপ কমে গেলে মাথায় এক ধরনের হরমোন কমে যাওয়া। আপনার এমন মাথাব্যথা দেখা দিলে ঘাবড়ে যাবেন না। শুধু আপনার একার ক্ষেত্রে এটা ঘটে না।সমাধান: আপনার এমন হলে ছুটির দিনে বেশি ঘুমানোর লোভ সংবরণ করুন। আট ঘন্টার বেশি ঘুমানোর কারণে এ মাথাব্যথা হতে পারে। এটাতো গেলো বেশি মাথাব্যথা নিয়ে। ঘুম কম হলেও মাথা ব্যথা হতে পারে: অনেকের ঘুম কম হলে মস্তিষ্কে ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা বেড়ে যায়। অল্পতেই মাথাব্যথা অনুভব করে। তখন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। আর ঘুম কম হলে মাথাব্যথা বারবার দেখা দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।
- নির্দিষ্ট কিছু খাবার: চা- কফি কোলা বা কোমল জাতীয় পানীয় খেলে এ ধরনের মাথাব্যথা হতে পারে। কারণ এগুলোতে আছে ক্যাফিন যা মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।সমাধান: যদি এসব পানীয় পান করলে দেখেন যে আপনার মাথা ধরেছে, তাহলে এগুলো কম পরিমাণে পান করুন।
- পানি কম খাওয়া : যতটুকু পানি খাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি পরিমাণ পানি শরীর থেকে বের হয়ে গেলে মাথা ব্যথা হতে পারে। আমরা অনেকেই বুঝতে পরিনা কখন শরীরের পানি সল্পতা দেখা দিচ্ছে। শুধু বমি বা ডায়রিয়া নয়। অতিরিক্ত ঘামলে বা পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করলেও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।সমাধান: দিনে অন্তত দুই লিটার পানি পান করতে হবে। মাথাব্যথা শুরু হলেও যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করার চেষ্টা করবেন।
- কোন বেলার খাবার না খাওয়া : খাওয়া-দাওয়া অনিয়ম করলে বা এক বেলা খাবার না খেলে মাথাব্যথা করতে পারে। আমরা যা খাই, সে খাবার থেকে শরীর এক প্রকার চিনি তৈরী করে। যেটা ব্রেনের খাদ্য। আপনি না খেলে রক্তের সাথে এই চিনির পরিমাণ কমে যায়। আর সেই কারণে মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। যে চিনির কথা বললাম সেটা আর চা বানানোর চিনি কিন্তু এক না।সমাধান: কোন বেলার খাবার বাদ দেওয়া যাবে না। মাথাব্যথা হলেও সময়মতো খাবার খেয়ে নিতে হবে।
- সারাদিন শুয়ে বসে থাকা: আপনার পরিশ্রম যদি কম হয় মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। সমাধান বুঝতেই পারছেন। নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে।
- মানসিক চাপ: এটা খুবই সাধারণ একটা কারণ। কোন কিছু নিয়ে মানসিক চাপে থাকলে মাথাব্যথা হতে পারে। তাই যা নিয়ে মানসিক চাপে আছেন তার সমাধান করে নিতে হবে।
মাথাব্যথা মানে শুধুমাত্র মাইগ্রেন নয়। একাধিক কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। কেন মাথাব্যথা হচ্ছে তার কারণ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারলে এ ব্যথা উপশমের চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। আরাম পাবেন আপনি।
এতক্ষণ বললাম সবচেয়ে সাধারণ মাথাব্যথা কারণ ও সমাধান। এখন কয়েকটি মাথাম্যথার ধরণ বলবো, যেটা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া প্রয়োজন।
- মাথার একপাশে:মাইগ্রেন যদি মাথাব্যথা আপনার মাথার একপাশে (মাথার বামপাশ অথবা ডানপাশ) হয় এবং মাথায় স্পন্দন অনুভূত হয়, তাহলে তা মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে। মাইগ্রেনে ভোগার এক ডজনেরও বেশি কারণ রয়েছে, পরিত্রাণ পাওয়া খুব একটা সহজ নয়। মাইগ্রেনের ব্যথা তীব্র হয় এবং কার্যক্রমে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যত দ্রুত সম্ভব মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। এই ব্যথা নির্মূল হয়না। তবে সতর্ক ও প্রর্ববেক্ষণের মধ্যেই থাকা উচিত।
- মাথার চারদিক জুড়ে: মানসিক চাপে মাথাব্যথাকে টেনশন-টাইপ হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা বলা হয়। এ ব্যথায় আঁটসাট যন্ত্র মাথার চারদিকে চেপে আছে বলে মনে হয়।
- মুখমণ্ডলে: যদি আপনি চোখে এবং গালে চাপ অনুভব করেন, তাহলে তা সাইনাস হেডেকের লক্ষণ বলে ধরে নিতে পারেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাইনাস হেডেক খুব বিরল এবং প্রায়সময় তা আসলে মাইগ্রেন, যার কারণে মুখমণ্ডলে ব্যথা হতে পারে।
- হঠাৎ মাথার যেকোনো অংশে: থান্ডারক্ল্যাপ হেডেকের ক্ষেত্রে মাথার ভেতর বজ্রাঘাত অনুভূত হয়। এ ব্যথা তীব্র হয়, কমপক্ষে পাঁচ মিনিট থাকে এবং আপনি হয়তো জানতেও পারবেন না কেন তা হচ্ছে। মাথাব্যথার প্রকারভেদের মধ্যে এ ধরনের মাথাব্যথা বিপদাশঙ্কার নির্দেশ করতে পারে। আপনার যদি এরকম মাথাব্যথা হয়, তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।
- চোখের পিছনে: যদি আপনি অনুভব করেন যে চোখের পিছন থেকে কোনো কিছু আপনাকে খোঁচা দিচ্ছে, তাহলে তা ক্লাস্টার হেডেকের লক্ষণ হতে পারে। এই মাথাব্যথাকে সুইসাইড হেডেকও বলে। কারণ এতে ব্যথা খুব তীব্র হয়। এটি প্রায়ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষদের বেশি প্রভাবিত করে। ব্যথার সঙ্গে চোখে লাল ভাব, চোখ থেকে জল পড়া, ক্লান্তি আসবে।
- মাথার উপরিভাগে বা মুখমণ্ডলের উপরিভাগে: অ্যালার্জি হেডেক সাইনাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও তা ঋতুভিত্তিক হয়ে থাকে সঠিকভাবে এ সমস্যা শনাক্ত করতে ডাক্তার থেকে ডায়াগনোসিস করা উচিত।
- কপাল বা মাথার একপাশে: আকাশপথে ভ্রমণের সময় মাথার একপাশে ব্যথা অনুভূত হতে থাকে, যাকে এয়ারপ্লেন হেডেক বলে। আকাশপথে ভ্রমণ খুব একটা কঠিন না হলেও গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, প্রতি ১২ জনের একজন লোক এয়ারপ্লেন হেডেকে ভোগে।
- মাথার যেকোনো অংশে ব্যথা: যদি কাজকর্মের সময় বা পরে শ্রমসংক্রান্ত মাথাব্যথা হয়ে থাকে। ব্যায়াম বা অনুশীলন কিংবা উত্তেজনা বা কামোত্তেজনায় বেড়ে যেতে পারে। এতে তীব্র মাথাব্যথা, এক-পার্শ্বস্থ মাথাব্যথা, স্পন্দিত মাথাব্যথা, একটানা মাথাব্যথায় বমি বমি ভাব দেখা যায়।
- ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিলে বা মাথাব্যথা তীব্র হলে।
- ব্যথানাশক ওষুধ খেয়েও মাথাব্যথা না কমলে আর ক্রমশ খারাপ হতে থাকলে।
- মাথার সামনের দিকে বা একপাশে তীব্র টনটনে ব্যথা অনুভব করলে ব্যথাটি মাইগ্রেশন হতে পারে। অথবা কিছু ক্ষেত্রে ক্লাস্টার হেডেক হতে পারে।
- মাথাব্যথার সাথে বমি ভাব হলে বা আলো- আওয়াজ যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠলে। একটু আগেই বলেছি এটা মাইগ্রেন হতে পারে।
- আপনার বয়স যদি চল্লিশের বেশী হয়। আগে কখনোই মাথাব্যথা হত না, এখন নতুন করে শুরু হলে। সেটা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
- আপনার সাধারণত যেমন মাথাব্যথা হয় তার ধরণ অনেক পাল্টে গেলে সেটাও ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।এই যে দু’টি লক্ষণ বললাম। এগুলো হলেই যে ক্যান্সার হতে পারে এমনটা নয়। অনেক কারণেই এমনটা হতে পারে। তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে দু:শ্চিন্তামুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
- মাথাব্যথা হঠাৎ শুরু হলে এবং ব্যথার তীব্রতা অনেক বেশি হলে অথবা মাথাব্যথা এত তীব্র হলে যা আপনার জীবনে আগে কখনো হয়নি। এগুলো ব্রেনের রক্তক্ষরণের লক্ষণ।
- মাথায় গুরুতর আঘাত পেলে। যেমন , কোন দুর্ঘটনা বা কোথাও পড়ে যাওয়ার ফলে।
- প্রচণ্ড মাথা ব্যাথার সাথে আরও লক্ষণ থাকলে যেমন: কথা বলতে কিংবা কিছু মনে করতে হঠাৎ অসুবিধা হলে বা হাত অথবা পা দুর্বল, অবস হয়ে আসলে এগুলো স্ট্রোকের লক্ষণ।
- ঝিমিয়ে পড়লে অথবা অসংলগ্ন আচরণ করলে কিংবা গায়ে জ্বর আসলে বা কাঁপুনি হলে, ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে অথবা চামড়ায় মেশ উঠলে। এগুলো ব্রেনের ইনফেকশনের লক্ষণ।খিঁচুনি হলে বা অজ্ঞান হয়ে পড়লে এগুলো ব্রেনের রক্তক্ষরণের লক্ষণ । চোখের সাদা অংশে লাল হয়ে গেলে ,চোখে ঝাপসা দেখলে বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললে এখানেও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন ।
- প্রচণ্ড মাথাব্যথার সাথে খাবারের সময় চোয়ালে ব্যথা হলে, চোখে ঝাপসা দেখলে অথবা একটার জায়গায় দু’টো দেখলে। মাথার তালুতে চাপ দিয়ে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন। এগুলো মাথায় এবং ঘাড়ের রক্তনালীর প্রদাহের কারণে দেখা দিতে পারে। এতে এক বা দুই চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।
মাথাব্যথার ওষুধ:
ওষুধ খাওয়ার আগে একটা বিষয় জানতে হবে। আপনার মাথাব্যথাটা অন্যান্য কারণে অন্যকোন কারণে কিনা? যেমন মাইগ্রেনের মাথাব্যথা। কিভাবে বুঝবেন? আমরা যে দু:শ্চিন্তা ধরণের মাথাব্যথার কথা বলেছি এটাতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ব্যথা হয়। খুব তীব্র ব্যথা হয় না। দিনের স্বভাবিক কাজ চালিয়ে যাওয়া যায়। সাধারণত এ ধরনের মাথাব্যথার সময় বমি ভাব বা বমি হয় না। হাঁটাচলা করলে মাথাব্যথা কমে না। যদি এগুলো দেখা যায় তবে সেই মাথাব্যথা মাইগ্রেশনের কারণে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এছাড়াও এ দু’টি ব্যথা মাথার আলাদা আলাদা জায়গায় দেখা দেয়। দু:শ্চিন্তা ধরণের ব্যথাটা সাধারণত মাথার দুই পাশে হয়। মনে হয় ব্যথাটা মাথায় চাপ দিয়ে ধরে আছে। কারো কারো ক্ষেত্রে টুপির মতো টাইট হয়ে বসে আছে। আবার কারো কারো মাথার উপর ভারী একটা ওজন বসে আছে। সাধারণত ব্যথা মাথার সামনে থেকে পেছনে এবং ঘাড়ে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে মাথার যেকোন জায়গায় হতে পারে।
পক্ষান্তরে মাইগ্রেনের ব্যথাটা অন্য রকম হয়। ব্যথাটা টনটন করতে থাকে। মনে হয় একটা রক্তনালী সংকুচিত ও প্রসারিত হচ্ছে।
পার্থক্য তো বুঝে গেলাম। এখন বলছি দু:শ্চিন্তা ধরণের মাথাব্যথা হলে কি ওষুধ কতদিন খাবেন। এ ধরনের মাথাব্যথা কমাতে ১ হাজার মিলিগ্রাম প্যরাসিটামল কার্যকরী । আমাদের দেশে সাধারণত ৫শ’ মিলিগ্রাম প্যরাসিটামল পাওয়া যায়। ৫শ’ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট হলে ২ টি খাবেন।
কখন খাবেন? মাথা ব্যথা চলে গেলে এ ওষুধ খাবেন না। যদি মাথাব্যথা থেকে যায় তবে ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পরপর খেতে পারেন। তবে খুব খেয়াল রাখবেন, যাতে দিনে ৮টি ট্যাবলেটের বেশি না হয়। ওষুধের এ পরিমাণ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য। যার অন্য কোন রোগ নেই, শরীরের ওজন ৫০ জেজি বা তার বেশি। আপনার ওজন যদি ৫০ কেজির নিচে হয় বা অন্য কোন রোগ থাকে তাহলে চিকিৎসকের পমামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করবেন।
Tags:
Self Treatment
